সেলিম আহমেদ, ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ সারাদেশে ঈশ্বরদীর সুমিষ্ট ও রসালো লিচুর জন্য বিখ্যাত। লিচু চাষিরা বেশি লাভের আশায় অপরিপক্ক লিচু গাছ থেকে পেরে ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করছেন। ঈশ্বরদী বাজারে অপরিপক্ক লিচু বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। ক্রেতারা লিচুর ভালো-মন্দ না দেখে নতুন ফল হিসাবে চড়া দামে ক্রয় করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। লিচুর রাজধানী বলে খ্যাত ঈশ্বরদীতে মধু মাসের রসালো ফল লিচু মধু মাসের আগে ভাগে বৈশাখ মাসেই বাজারে অপরিপক্ক লিচু বিক্রি হচ্ছে।

টানা তীব্র দাবদাহে লিচু ঝরে যাচ্ছে, তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েও পরিপক্ক হওয়ার আগেই লিচু বিক্রি করে দিচ্ছেন কোনো কোনো বাগান মালিক। ফলে লিচুর আসল স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভোক্তারা। নতুন ওঠায় দাম অনেক চড়া। প্রতি ১০০ পিস লিচু বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। তবে অপরিপক্ক লিচু না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকগণ।
আর কৃষি বিভাগ বলছে লিচুর গুণগতমান ঠিক রাখার জন্য আরো কমপক্ষে ১০ দিন পর আটির লিচু সংগ্রহ করতে হবে। উল্লেখ্য, এমনিতেই লিচুর রাজধানী খ্যাত ঈশ্বরদীতে এবার লিচু নেই। ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ঈশ্বরদীর লিচু চাষি-ব্যবসায়িরা।
উপজেলার জয়নগর, সাহাপুর, বক্তারপুর, রুপপুর, ছলিমপুর, চরমিকামারী, আওতাপাড়া, বাঁশেরবাদাসহ বেশ কয়েকটি লিচুবাগান ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ গাছেই গুটি নাই। যেসব গাছে গুটি আছে তাও অত্যান্ত নগণ্য।

আগে একটি লিচুর থোকায় ৪০-৫০ টি লিচু থাকলেও এবার আছে মাত্র পাঁচ সাতটি। এবার মুকুল আসার সময় এই এলাকার অধিকাংশ গাছে মুকুল না এসে বের হয়েছে কচি পাতা।
সোমবার (৫ মে) উপজেলার চরমিরকামারী, গ্রামের ৭১ বছর বয়সী রাজ্জাক সরদার আক্ষেপ করে বলেন, লিচু ফলনে এমন বিপর্যয় তিনি আগে কখনো দেখেননি। তিনি জানান, তার ১১৫ টি লিচু গাছ আছে। গত বছর তিনি এই লিচু বাগান ৮ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেছিলেন কিন্তু এবার মুকুল বা গুটি না আসায় নামমাত্র অল্প কিছু টাকায় বাগান বিক্রি করে দিয়েছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঈশ্বরদীতে এবারে ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। এ সব বাগানে, দেশী আঁটি লিচু (মোজাফ্ফর) বোম্বাই, চিলি বোম্বাই ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু উৎপাদন হয়ে থাকে। এখানকার লিচু রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ দেশের প্রায় সকল জেলায় পাঠানো হয়।
কৃষিবিদরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈরি আবহাওয়া ও পরাগায়নে জটিলতার কারণে এবার লিচুর মুকুল বা গুটি কম হতে পারে।
অ
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রহল্লাদ কুমার কুন্ডু বলেন, লিচুর গুণগত মান ধরে রাখার জন্য কমপক্ষে আরও ১০ দিন পর লিচু বাজারজাত করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের। অপরিপক্ক লিচু খেলে ভোক্তারা লিচুর পুষ্টিমান পাবে না। লিচুর স্বাদ থেকেও বঞ্চিত হবে। এমনকি লিচুর যে ওজন হওয়ার কথা তাও হবে না।
0 Comments