ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতাঃ চলমান শীতের তীব্রতার সাথে ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন থাকছে আকাশ। ঈশ্বরদীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রী থেকে ১২ ডিগ্রিতে ওঠানামা করছে। গতকাল রোববার (২৬ জানুয়ারী) আবহওয়া অফিস ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রী এবং সোমবার (২৭ জানুয়ারী) ১১ দশমিক ২ ডিগ্রী রেকর্ড করে। ঘন কুয়াশার কারণে এরইমধ্যে বোরোধানের বীজতলার চারাগুলো গাঢ় সবুজ থেকে ক্রমেই কুঁকড়ে হলুদাভ হয়ে পড়ছে। কৃষি বিভাগ বলছে, ১৮ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা প্রবাহিত হলে বোরোসহ অন্যান্য ফসলের বীজতলাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ অবস্থা বিরাজমান থাকলে বোরো ধানের চারা তুলে জমিতে রোপন করার মতো অবস্থায় থাকবেনা। এতে বোরো আবাদ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন ।

সরেজমিনে সাঁড়া গোপালপুর এলাকার মাঠে দেখা যায়, বোরো ধানের কচি বীজতলার চারাগুলো শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশায় আক্রান্ত হয়ে গাঢ় সবুজ থেকে ক্রমেই কুঁকড়ে হলুদাভ হয়ে পড়ছে। কৃষকরা বলছেন, এই অবস্থা আরো এক সপ্তাহ চললে বোরো ধানের চারা তুলে জমিতে রোপন করার অবস্থায় থাকবেনা, এতে এ বছরে বোরো আবাদও হুমকির সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঈশ্বরদীতে এবার ৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলায় ধানের চারা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ঘন কুয়াশা ও নিম্নমুখি তাপমাত্রার কারনে এখনো অর্ধেক বীজতলা প্রস্তুত করা যায়নি। যেটুকু হয়েছে তার অধিকাংশই ক্ষতির মুখে পড়েছে শৈত্যপ্রবাহের কারনে। বীজতলায় আলাদা যত্ন নিয়েও হলুদাভ হওয়া থেকে রক্ষা করা যাচ্ছেনা ধানের চারা। বীজতলা ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষি বিভাগ থেকে।
শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলার পাশাপাশি জনজীবন ও গবাদি পশু নিয়েও কৃষক দুর্ভোগে পড়েছেন। মাজদিয়া এলাকার কৃষক মমিনুল জানান, চারা রোপন করার যোগ্য হয়ে ওঠার আগেই বীজতলা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। কুয়াশার প্রভাব থেকে কোনভাবেই প্রতিরোধ যাচ্ছেনা।

সলিমপুরের কৃষক ফরজ আলী জানান, বোরো ধানের চারা রোপনের জন্য জমি প্রস্তুত করেও চারা ওঠাতে না পারায় চাষাবাদ বিলম্বিত হচ্ছে। শীতের প্রকোপ না কমলে বীজতলা থেকে চারা ওঠানো এবং জমিতে রোপন করা যাচ্ছেনা।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাঘ মাসের শুরু থেকেই প্রচন্ড শীতের সাথে ঘন কুয়াশার কারণে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রীর নীচে রয়েছে ।
উপজেলা কৃষি অফিসার মিতা সরকার বলেন, ১৮ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা প্রবাহিত হলে বীজতলা ক্ষতির মুখে পড়ে। সেখানে ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রী থেকে ৮.৬ ডিগ্রিতে ওঠানামা করছে। এই অবস্থায় ল্যমাত্রার ৪৪ হেক্টর জমির মধ্যে মাত্র ২১ হেক্টর জমিতে বীজতলায় বোরো ধানের চারা প্রস্তুত হয়েছে। বাকি জমিতে এখনো চারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। কুয়াশা থেকে চারা রক্ষা করতে বীজতলা ঢেকে রাখা, প্রতিদিন সকালে চারায় জমে থাকা কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা ও নিয়ম করে সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। এরপরও বীজতলার চারা সবুজ রাখতে সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক প্রয়োগ এবং রাতে সাদা পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
0 Comments