ঈশ্বরদী পাবনা উপজেলা সংবাদদাতা: পাবনার ঈশ্বরদী-ঢাকা মহাসড়ক হয়ে উপজেলা শহর ঈশ্বরদীতে প্রবেশের পথ একটিই। তবে পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর পৌরবাসীর উদাসীনতায় এই শহরের প্রবেশ পথ হারুখালিতেই তৈরি হয়েছে ময়লা আবর্জনার ভাগার। যার ফলে এই শহরে মানুষকে প্রবেশ করতে হয় নাক চিপে ধরে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে এই মহাসড়ককেই বানানো হয়েছে ডাস্টবিন। তাই মহাসড়কের উপরেই তৈরী করা হয়েছে ময়লার বিশাল স্তূপ। ব্যস্ততম মহাসড়কে ময়লার স্তূপ থাকায় যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।

সরেজমিনে ঈশ্বরদী পৌর শহরের ডাস্টবিন খ্যাত হারুখালী ঘুরে দেখা যায়, আঞ্চলিক গ্যাস ট্রান্সমিশন স্টেশন থেকে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট এর প্রধান ফটক পর্যন্ত প্রায় বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা হয়েছে ময়লা আবর্জনা। কর্তৃপক্ষের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত মরা পশুপাখিসহ দৈনন্দিন কাজে তৈরি হওয়া সকল ময়লা বিভিন্ন পরিবহন এমনকি ট্রাক যোগেও এখানে ফেলে যায় স্থানীয় ও পৌর সভার কর্মীরা।
বছর জুড়ে ময়লার দূর্গন্ধে নাক টিপে পারাপার হলেও এবার এ রাস্তায় চলাই দূরুহ হয়ে পড়েছে পথচারীদের। কেননা, রাস্তার দুই ধারে ময়লা ফেলতে গিয়ে এবার মহাসড়কের উপরেই ড্রাম ট্রাকভর্তি ময়লা ফেলা হয়েছে। এতে দূর্গন্ধের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলে বাধাসহ ভয়াবহ দূর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক পথচারী।
পথচারী মো: লুৎফর রহমান বলেন, শহরেরে প্রবেশ পথে এমন একটি ময়লার ভাগার সত্যিই অপ্রীতিকর এবং দূর্ভাগ্যের। কেননা ঈশ্বরদী শহর যে কোন জেলা শহরের চেয়ে উন্নত হলেও আমাদের ময়লা ব্যবস্থাপনায় আমরা এখনো হীন মন মানষিকতার পরিচয় দিয়ে আসছি। মাঝে কিছুদিন ময়লা ফেলা বন্ধ হলেও নতুন করে আবার শুরু হয়েছে ময়লা ফেলা। এতে করে আমাদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুন।
স্থানীয় একটি কারখানার কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঈশ্বরদী পৌরসভা থেকে গাড়ীতে করে রাতে ও সন্ধ্যায় এসে এইখানে ময়লা ফেলে যায়। এই ময়লার দূর্গন্ধে আমাদের এই এলাকাতে টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে।
ঈশ্বরদী পৌরসভার কনজারভেন্সি অফিসার
আলিমুজ্জামান রুহেল বলেন, পৌরসভার ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর হতে চলেছে পৌরসভার কোন ময়লা আবর্জনা এখানে ফেলা হয় না। কে বা কাহারা ড্রাম ট্রাকে করে রাতের যেকোনো সময় ফ্যাক্টরির আবর্জনা মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়।
জানতে চাইলে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো: মনিরুজ্জামান বলেন, যেহেতু পৌর শহরের সব স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন নেই, তাই অভিযুক্তদের সনাক্ত করাটা কষ্টসাধ্য। তবে ওই এলাকায় বসবাস কারীরা যদি ময়লা ফেলতে আসা গাড়ী গুলোকে আটক করে আমাদের খবর দেন তাহলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারব।
0 Comments