Header Ads Widget

News Portal Advertisement

Welcome to Our News Portal

Stay updated with the latest news and trending stories from around the globe.

ঈশ্বরদীর পাকশী হরিজন পল্লীতে ২৫ মুখ ও ৫০ হাতের দেবী দুর্গা প্রতিমা তৈরি করছে

ঈশ্বরদী (পাবনা) উপজেলা সংবাদদাতা: ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রেলওয়ে হরিজন পল্লীর শ্রীশ্রী বারোয়ারী দুর্গা মন্দির কমিটি এবার ২৫ মুখ ও ৫০ হাতের দেবী দুর্গা প্রতিমা তৈরি করছে। দেবীর ২৫ মাথা ৫০ হাত ছাড়াও থাকছে দুটি সিংহ, একটি অসুর ও একটি মহিষাসুর। এর আগে একই রূপে দেবী দুর্গার আরাধনা প্রথম হয়েছিল দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর লম্বোদরপুরে। তবে বাংলাদেশের কোথাও এমন প্রতিমা তৈরি হয়নি বলে দাবি আয়োজকদের। এ প্রতিমা এখানকার সেরা আকর্ষণ ও দেখতে উপচে পড়া ভিড় হবে আশাবাদী আয়োজকরা।
হরিজনপল্লীর বারোয়ারী মন্দিরে গিয়ে দেখা গেছে, শেষ সময়ে প্রতিমাকে ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। তবে প্রতিমার পূর্ণাঙ্গ রূপে আনতে আরও দুদিন সময় লাগবে বলে জানান মৃৎশিল্পী উকিল কামার। মৃৎশিল্পী উকিল কামার বলেন, দীর্ঘ ১৮-২০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করে আসছি। কিন্তু ১৬ ফুট উচ্চতার ২৫টি মুখ ও ৫০টি হাতওয়ালা এমন দেবীমূর্তি আগে কখনও তৈরি করিনি। এ প্রতিমা তৈরির কাজটি আমার কাছে চ্যালেঞ্জিং ছিল। দেবীর ২৫ মাথা পরপর লাগাতে হয়েছে। পরে সেই অনুযায়ী হাতও সংযোজন করতে হয়েছে।’
পাকশী রেলওয়ে হরিজনপল্লী দুর্গোৎসব কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজু বলেন ‘দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর লম্বোদরপুরের দুর্গা দেবীর ২৫টি মুখ আর ৫০টি হাতওয়ালা প্রতিমা ২০২২ সালে সেখানের ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বেশ আকর্ষণ তৈরি করে। ভক্তরা চামুণ্ডা দেবীর আরাধনা করে তৃপ্তি লাভ করেছিল। সেই প্রত্যাশা থেকেই এবার আমরা প্রতিমার এ রূপ দিয়েছি। আশা করছি পাকশীসহ আশেপাশের এলাকায় পুজোর মুল আকর্ষণ হবে দুর্গাদেবীর এ চামুণ্ডা রূপ। তাই এবার রণংদেহী অবতারে দেবীকে সামনে আনা হয়েছে। মণ্ডপের মুখেই রীতি মেনে দুটি সিংহ থাকছে।’ আয়োজকদের দাবি, এর আগে দেশের কোথাও ২৫ মুখ ও ৫০ হাত ওয়ালা বিশিষ্ট দুর্গা প্রতিমা তৈরি হয়নি। তবে উত্তর কলকাতার বরানগরের নেতাজি কলোনি লোল্যান্ড দুর্গাৎসবে ২০২৪ সালে ২৩ মুখ ও ৪২ হাতের দুর্গা প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছিল। এর আগে ২০২২ সালে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর লম্বোদরপুর মন্দিরে ২৫ মুখ ও ৫০ হাত বিশিষ্ট দুর্গা প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছিল। হরিজনপল্লী মন্দিরের সম্পাদক রাজু বলেন ‘অসুর নিধনে স্বর্গের দেবতারা দুর্গা দেবীকে সৃষ্টি করেছিলেন। নিজেদের অস্ত্রে সুসজ্জিত করে রণক্ষেত্রে পাঠিয়েছিলেন। রণংদেহী দুর্গার সামনে তখন শুধু মহিষাসুর। নানা ছলে ও কৌশলে অসুর আসছে মা দুর্গাকে আক্রমণ করতে। তাই মায়ের ক্ষিপ্রতা যেন ২৫টি মাথার মতো ঘুরছে। দশ হাত তখন ৫০ হাতের শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। তাই মণ্ডপে থাকছে একটি অসুর ও একটি মহিষাসুর। আর দুটি সিংহযোগের দেবীর আসন। এভাবেই রণক্ষেত্রে দুর্গার যুদ্ধং দেহী মেজাজটিকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হবে।’ এবার অন্যরকম প্রতিমা দেখতে হরিজনপল্লীতে ভিড় উপচে পড়বে বলে আশা তার।

Post a Comment

0 Comments