ঈশ্বরদী (পাবনা) উপজেলা সংবাদদাতা: ঈশ্বরদী শহরের ফতেমোহাম্মদপুরে দীর্ঘকাল থেকে বেনারসির তাঁত শিল্প রয়েছে। ঈশ্বরদীর কারিগরদের তৈরি বেনারসি শাড়ি বেশ আগে থেকেই দেশ জুড়ে জনপ্রিয়। এবার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা ও ভারতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দূর্গা পূজার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি রয়েছে। আগের থেকে তাঁত ও শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে। ঈশ্বরদীর বেনারসির ব্যাপক চাহিদা থাকায় বেনারসি কারিগররা দিনরাত কাপড় বুনে যাচ্ছেন। বেনারসির পাশাপাশি তারা জরি ও পুথির শাড়ি তৈরি করছেন।
শাড়ি কিনতে আসা অঞ্জনা দত্ত, সুবর্ণা রায়, রত্না কর্মকার, পূজা রায়, মালতি রানী ও লক্ষ্মী চক্রবর্তীর সাথে কথা হলে তারা জানান, নতুন মডেলের অনেক শাড়ি বাজারে এসেছে। গতবারের চাইতে এবার শাড়ির দাম একটু চড়া। উৎসব বলে কথা। দাম বেশি হলেও উৎসবের কারণে চড়া দামেই আমাদের শাড়ি কিনতে হচ্ছে।

ষাট উর্ধ্ব বেনারসি শ্রমিক রফিক খান বলেন, এটা বাপ দাদার পেশা। অন্য কোন কাজ কখনো শিখিনি। তাই বেনারসি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। এই পেশাতে আগের মতো তেমন কাজ নেই। আমরা কিছু মানুষ এ পেশাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছি। বেনারসি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন রয়েছে।
আবিদ বেনারসি বলেন, ঈশ্বরদীতে কয়েকশত বেনারসি শাড়ি তৈরির তাঁত ছিল। আগের চেয়ে বর্তমানে প্রমিকের মূল্য বেড়েছে। একই সাথে শাড়ি তৈরিতে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত সুতা, জরি ও পুথির দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। তাঁত বন্ধ হয়ে যাওয়াতে বেনারসি শ্রমিকেরা অনেকেই তাদের পেশা বদল করেছেন। এখন যারা আছে তারা অনেক কষ্টে এই পেশাটাকে ধরে রেখেছেন।
জাবেদ বেনারসি জানান, ঈশ্বরদীতে আগের চেয়ে তাঁতের সংখ্যা কমেছে। উৎপাদনের দিক থেকে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। শ্রমিক থেকে শুরু করে সব কিছুরই দাম বেড়েছে। আমাদের ঈশ্বরদীর তৈরী বেনারসি কাতান রাজধানী ঢাকাসহ ভারতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পুজো উপলক্ষে সকলেই যেন শাড়ি কিনতে পারে। ধনি, গরিব ও মধ্যবিত্তদের কথা মাথায় রেখে এবার নতুন নতুন মডেলের শাড়ি তৈরি করা হয়েছে। এবার পুজো উপলক্ষে অনেকেই ঈশ্বরদী থেকে বেনারসি শাড়ি কিনে তাদের ভারতে থাকা আত্মীয়-স্বজনের কাছে উপহার হিসাবে পাঠিয়েছেন।
ঈশ্বরদী ফতেমোহাম্মদপুরের স্থায়ী বাসিন্দা ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর কামাল আশরাফী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে এই এলাকার প্রায় বাড়িতেই বেনারসি তৈরির তাঁত ছিল। শাড়ি তৈরির কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত তাঁত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাঁত বন্ধের কারণে শ্রমিকেরা পেশা বদল করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। নতুন করে কেউ এই পেশায় আসছে না। ঈশ্বরদীর বেনারসি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকের সহযোগিতা পেলে এই শিল্প টিকে থাকবে নতুবা এক সময় হারিয়ে যাবে।
0 Comments