Header Ads Widget

News Portal Advertisement

Welcome to Our News Portal

Stay updated with the latest news and trending stories from around the globe.

তপ্ত রোদেও সড়কে দায়িত্বে অনড় ট্রাফিক পুলিশ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মাত্র ২০ দিন আগে বদলি হয়ে পাবনার ঈশ্বরদী ট্রাফিক পুলিশে যোগদান করেছেন ৫০ বছর বয়সী আক্তারুজ্জামান নামে এক ট্রাফিক কনস্টেবল। তপ্ত রোদে মাথায় ক্যাপ পরে ক্লান্ত শরীর ও ঘামে ভেজা পোশাক পরিধান করে সড়কে যান নিয়ন্ত্রণ ও নিজ দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। তার চোখেমুখের ক্লান্তির ছাপ আর কাঠফাটা রোদে গরম সড়কে দাঁড়িয়ে যানজট নিরসনের দৃশ্যটি দেখে যেন মনে হচ্ছিল ‘আমাদের নিরাপত্তার জন্য তারা সর্বদা প্রস্তুত’।
ঈশ্বরদী পৌর শহরের বাজারের এক নম্বর গেট এলাকায় দাঁড়াতেই বাঁশির হুইসেল বাঁজিয়ে যান নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায় তাকে। একটু এগিয়ে গেলে কথা হয় তার সঙ্গে। খুব সহজভাবেই তিনি বলছিলেন, রমজান মাসে ইফতার করতে মানুষকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতেই আমাদের এ দায়িত্ব। সবাই যখন বাড়ি পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে পারবে তখন এ কষ্ট আমাদের ভালোলাগায় পরিণত হয়। শুধু আক্তারুজ্জামানই নয় এমন আরো প্রায় ২৮ জন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য পৌরবাসীকে কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে রোদ-বৃষ্টি ঝড় মাথায় নিয়ে সড়কে দায়িত্ব পালন করছেন। রোববার (৩০ মার্চ) প্রখর রোদে এক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা যেখানে আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাফিক পুলিশ দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। শুধু দায়িত্বই নয় রোজার সেহরি ইফতার দুটোই করতে হচ্ছে সড়কেই। দূর-দূরান্ত থেকে নাড়ির টানে অনেকেই বাড়ি ফিরলেও শুধু ফিরতে পারছেন না মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই মানুষগুলো। রোববার ইফতারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পৌর শহরের মূল পয়েন্ট রেলগেট, বাজার, পোস্ট অফিস মোড় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ও বাড়তি যানবহনের চাপে চারদিকে সড়কে যানবহনের লম্বা লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে বিকেল ৩টার পর ঘরমুখো মানুষের চাপে একেবারেই নাস্তানাবুদ অবস্থা। পানির বোতল হাতে নিয়ে একদিকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে মানুষকে দ্রুততার সঙ্গে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া অন্যদিকে আজান হলে সড়কে দাঁড়িয়েই পানি খেয়ে ইফতার করছেন দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা।
রেলগেটে ওয়াকিটকি হাতে নিয়ে ইফতারের আগে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিকের উপ-পুলিশ পরিদর্শক নূর ইসলাম। যখন আজান হলো তখন হাতে থাকা পানির বোতল থেকে পানি খেয়ে ইফতার করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, প্রতিবার রোজার মাসে আমাদের এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা অনেক সময়ই সড়কে ইফতার করি। এতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। মানুষজন যেন বাসায় গিয়ে ইফতার করতে পারে সেই চেষ্টাটা আমরা সর্বোচ্চ করি। দুপুর দেড়টার দিকে বাজারের পৌর মার্কেট এলাকায় ছাতা মাথায় সড়ক সামলাচ্ছিলেন ট্রাফিকের সহকারি পুলিশ পরিদর্শক ইসমাইল হোসেন ও কনস্টেবল কালাম। জিজ্ঞেস করছিলাম-ঈদের সময় পরিবার পরিজন রেখে এই অচেনা শহরে প্রখর রোদে সড়কে দায়িত্ব পালন করছেন, কষ্ট হচ্ছেনা? খুব রুঢ়তার সঙ্গে তারা বলেন, এই শহরের মানুষগুলোই আমাদের পরিবার। তারা নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পারলেই আমরা আনন্দিত। তবে তাদের দায়িত্ব পালনে একটি নির্ধারিত স্থানে একটি ছাউনি হলে মানুষের জন্য আরো বেশি কাজ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তারা। ঈশ্বরদী ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, শুধু ট্রাফিক নয় পুরো পুলিশ বাহিনীর প্রত্যেকটা সদস্যই মানুষের জন্য কাজ করে। আর এখন ঈদের সময়, সড়কে মানুষের ভোগান্তি বিহীন চলাচলে আমাদের ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। আপনাদের সহায়তা আমাদের কাজের প্রতি আরো বেশি উৎসাহ দেবে। আর ছাউনির যে বিষয়টি সেটা আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবো।

Post a Comment

0 Comments