Header Ads Widget

News Portal Advertisement

Welcome to Our News Portal

Stay updated with the latest news and trending stories from around the globe.

ঈশ্বরদী রেলওয়ে সরকারি নাজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক দিয়ে চলে ৫'শ শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যবস্থা

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি।। ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ফতেমোহাম্মদপুরে প্রায় ৫'শ শিক্ষার্থীর জন্য প্রধান শিক্ষকসহ মাত্র শিক্ষক রয়েছে পাঁচজন। শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া নেই কোন অফিস সহকারী। প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারি না থাকায় প্রশাসনিক কাজও ঠিকমত শেষ হয় না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈশ্বরদী রেল জংশন স্টেশন ও মোহাম্মদপুরে লোকোমোটিভ ডিজেল রানিং সেড থাকায় এ এলাকায় রেলওয়ে স্টাফ কোয়াটার গড়ে তোলা হয়। এ কারণে ফতেমোহাম্মদপুর লোকো কলোনি নামেও পরিচিত।
এসব কোয়াটার রেল কর্মচারীরা বসবাস করার কারণে বিদ্যালয়টিতে রেল স্টাফদের ছেলে-মেয়ে বেশি ছিল। এ কারণে বিদ্যালয়টি বাংলাদেশ রেলের আওতাধীন করা হয়। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে ১৯৫২ সালে এই বিদ্যালয়টি ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ফাতেমোহাম্মদপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৭৩ বছর আগে তৈরি হলোও বিদ্যালয় টিতে রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় এক ঝলক দেখতে চোখ ফেলতে হয় ভবনের দিকে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৯০ জন। আর শিক্ষকের সংখ্যা সংখ্যা মাত্র পাঁচজন। এরমধ্যে একজনকে (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ৯৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে মাত্র একজন। ব্রেঞ্চ সংকটও রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা ২৮। এর মধ্যে প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ছাড়াও সহকারি এবং জুনিয়র শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৭ টি। সূত্র আরও জানায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সহ দুইজন বিজ্ঞানের শিক্ষক, অংক, রসায়ন, পদার্থ, জীববিদ্যা ও বিজ্ঞান বিষয় পাঠদান করাচ্ছেন। লাইব্রেরী থাকলেও নেই লাইব্রেরিয়ান, বিজ্ঞানাগার অবস্থা একই। একজন পাহারাদার ও একজন পরিচ্ছন্ন কর্মী থাকলেও অফিস সহকারীর দুটি পদই শূন্য ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,রেলওয়ে নাজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করানো হয়। নবম ও দশম শ্রেণীর সংখ্যা ১৩৫ জন। তাদের বিজ্ঞান ও ইতিহাস বিষয়ে পাঠদান করানো হয়। বাকি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের সিলেবাস অনুযায়ী পাঠদান করানো হয়ে থাকে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনোয়ার শেখ জানান, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে পাঠদানে চরম বেগ পেতে হয়। এভাবে দিনের পর দিন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করানো যায় না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) তোফাজ্জ্বল হোসেন বলেন, ২০১২ সাল থেকে শিক্ষক সংকট শুরু হয়। অবসরে যাওয়ার পর শিক্ষকের পরিবর্তে শিক্ষক প্রদায়ন করা হয়নি। এভাবে পর্যায়ক্রমে শিক্ষক শংকট এখন চরমে পৌঁছে গেছে। কিছুদিন খন্ডকালীন শিক্ষক রেখে পাঠদান করানো হয়েছে। কিন্তু এখন খণ্ডকালীন শিক্ষক রাখা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অফিস সহকারি না থাকায় প্রশাসনিক কাজেও নানা সমস্যা হয়। এসব সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) ও রেলওয়ে নাজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ বলেন, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকট রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষক সংকট সমাধানে আলোচনা হয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Post a Comment

0 Comments