ঈশ্বরদী (পাবনা) উপজেলা সংবাদদাতা: পাবনার ঈশ্বরদীতে সবজি আমদানি বেশি হলেও দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। নিত্যপণ্যের দাম এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে যেখানে এক কেজি ঢ্যাঁড়সের দাম ছিল ৪০ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা। একই ভাবে কাঁচামরিচ, বেগুন, পটোল, করোলা, লাউ, ওল কচু, চাল কুমড়া, মুলা, ঝিঙে, কাকরোল, বরবটি, লালশাক, পুঁইশাক কলমিশাক, পালং শাক ও কচুর দাম বেড়েছে। সোনালি ও বয়লার মুরগির দামও উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সোনালি মুরগির কেজি গত সপ্তাহে যেখানে ছিল ২৪০ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ২৮০ টাকা। আর বয়লার মুরগির দাম বেড়ে হয়েছে ১৬০ থেকে ১৭৯ টাকা কেজি।
ঈশ্বরদীর প্রধান সবজি ও মুরগির বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি সবজির উৎপাদনও কমেছে। তাই সবজি ও মুরগির দাম বাড়ছে। তবে বাজারে সবজি পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে।
সবজি ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন বলেন, 'পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ আমার জানা নেই। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজির দাম বেড়েছে। তিনি জানান, এক সপ্তাহ আগে কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছিল ১২০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। পটোল, বেগুন, করোলা, লাউ ও কচুর দাম গত এক সপ্তাহে বাড়ছে। এক সপ্তাহ আগে পটোল ছিল ৬০ টাকা কেজি, এখন ৮০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে বেড়ে ২০০ টাকা, করোলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি ব্যবসায়ী বাদল হোসেন জানান, 'বাজারে মুরগির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।' তিনি বলেন, সোনালি মুরগির দাম এক সপ্তাহে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা এবং বয়লার মুরগি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে। ডিমের দামও বেড়ে প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা হয়েছে।
ক্রেতা জাহানারা বেগম বলেন, গত দেড় মাস বাজার স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহে পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৭০, পটোল ৬০ থেকে ৮০, বেগুন ৭০ থেকে ৯০, কাঁচামরিচ ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে উঠেছে। মনে হচ্ছে কেউ ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়েছে। বাজারে মনিটরিং থাকলে এমন হতো না।
বাজার সূত্র জানায়, আলু, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, পুঁই ও লাল শাকের দাম গত এক সপ্তাহে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সরবরাহ সংকট ও বৃষ্টিপাতের কারণে শীতকালীন সবজির দাম দ্রুত বাড়ছে। ক্রেতারা বলছেন, মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে সবজি ও মুরগির বাজারে মূল্যস্ফীতি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে ক্রেতাদের অধিকার রক্ষায় বাজার মনিটরিং বাড়ানো জরুরি বলে তারা মনে করছেন। এ পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দাম বৃদ্ধির ফলে গরিব-মধ্যবিত্ত পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে চাপ বাড়ছে। বাজার কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি উঠেছে।
গত এক সপ্তাহে ঢ্যাঁড়স, কাঁচামরিচ, বেগুন, পটোল, করোলা, লাউ, চাল কুমড়া ও কচুর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মুরগি ও ডিমের দামও ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ক্রেতাদের বোঝাপড়ার বাইরে এমন দাম বৃদ্ধিকে বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা বলে দেখছেন কিছু ব্যবসায়ী। তবে ক্রেতারা এই দাবিতে আছেন, বাজার মনিটরিং কঠোর না হলে মূল্যবৃদ্ধির মাত্রা আর কমবে না।
0 Comments