‘ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধিঃ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঈশ্বরদীতে সাম্যের কবি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬ তম জন্মজয়ন্তী পালিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৪ জুন) দিনব্যাপী এ আয়োজনে সকাল ১০ টায় “আমাদের ভাবনায় নজরুল” শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন দাশুড়িয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সাংবাদিক হাসানুজ্জামান, ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক সালেক শিবলু, শিক্ষিকা আদু বালা শীল ও সিনিয়র সাংবাদিক খন্দকার মাহবুবুল হক দুদু।

সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি জাহিদুল আলম সনু, সহ-সম্পাদক আতাউর রহমান বাবলু, প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক সাংবািদক রেজাউল করিম ফেরদৌস, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পরিতোষ কুমার পাল ও নাসরিন আক্তার শেলী এদিন বিকালে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনীর উপরে আলোচনা, নজরুলগীতির অনুষ্ঠান, গুনীজনদের সম্মাননা প্রদান ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল গবেষক, প্রাবন্ধিক, ঈশ্বরদী সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের আজীবন সদস্য কবি মজিদ মাহমুদ।
সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান কামালের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী, সমালোচক, কবি রফিক সোলাইমান, বিশিষ্ট নজরুল শিল্পী ওস্তাদ আমিনুজ্জামান, ওস্তাদ সালামত হোসেন চৌধুরী রিনা ও ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান শাহীন।
অনুষ্ঠানে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনীর উপর বিষোদ আলোচনা করেন নজরুল গবেষক ও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কবি মজিদ মাহমুদ। এছাড়া আলোচনা করেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম জন্মজয়ন্তী উৎযাপন কমিটির আহবায়ক হিসাবে ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তাক আহমেদ কিরণ, সদস্য সচিব আশিকুর রহমান লুলু, সংগঠনের আজীবন সদস্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আখতার হোসেন, সংগঠনের সহ-সম্পাদক সেলিম সরদার।
বক্তারা বলেন, নজরুল প্রেমের কবি, সাম্যের কবি, বিদ্রোহী কবি, প্রাণের কবি, জাতীয় কবি। নজরুলের সাড়ে তিন হাজার গান রয়েছে কিন্তু শিল্পীরা মাত্র ২০০ গানের বেশি পরিবেশন করেন না। নজরুলের গানের প্রচার প্রসারের জন্য সরকারের কাছে আমরা অনুরোধ করবো। একই সাথে আমাদের দেশে কাগজের মুদ্রায় কবি নজরুল ইসলামের ছবি ছাপা হোক। আমরা নজরুল জন্ম জয়ন্তীতে যেভাবে অনুষ্ঠান করি কিন্তু তার মৃত্যুবার্ষিকীতে সেভাবে অনুষ্ঠান করা হয় না। আনন্দময় আগুন কবিতা লিখে কাজী নজরুল ইসলাম জেলে গিয়েছিলেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীরা সমবেত সংগীত, একক সংগীত ও কবিতা আবৃত্তি করেন। নজরুলগীতিতে অংশ নেন ওস্তাদ আমিনুজ্জামান,ওস্তাদ সালামত হোসেন চৌধুরী, শিল্পী মাসুদ রানা, আব্দুস সাত্তার, এস আলমগীর,পাপ্পু, রাইসা, অন্মেষা, রিদ্ধি। তবলায় ছিলেন মোহন হাসান, কবিতা আবৃত্তি করেন নুরুল ইসলাম বাবলু, আদু বালা শীল ও হুমায়ুন কবীর তরুণ।
এ সময় ওস্তাদ আমিনুজ্জামান ও ওস্তাদ সালামত হোসেন চৌধুরীকে সম্মাননা স্বারক প্রদান ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের ক্রেষ্ট, সনদপত্র ও বই প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সহ-সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান বাবলু ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক ওহিদুজ্জামান টিপু।
0 Comments