ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধিঃ কোরবানির ঈদ দরজায় কড়া নাড়লেও ঈশ্বরদীর পশুর হাট জমছে না। হাটে দেশি গরুর পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। তবে আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। কোরবানীর ঈদের বিশেষত্ব পশু ক্রয় এবং কোরবানী করা। পোষাক-পরিচ্ছদ ক্রয়ে মানুষের তেমন একটা আগ্রহ না থাকায় গরু ও ছাগল ক্রয়ের হাট ঈদের আগ পর্যন্ত জমজমাট থাকে। কিন্তু এবারে হাটজুড়ে গরু আর গরু। কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম। তাই আশা অনুযায়ি দর হাঁকছেন না কেউই। বিশেষ করে গরু নিয়ে আসা ব্যক্তিদের মধ্যেই হতাশা বেশি।
ঈশ্বরদীর অরণকোলা উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পশু হাট। রোজার ঈদের পর থেকে এ হাটের ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। এ হাটে শুধু গরু ও মহিষ কেনা-বেচা হয়। আরেক পশু হাট সাহাপুর ইউনিয়নে আওতাপাড়া হাটে বিপুল গরু ও ছাগল বিক্রি হয়ে থাকে। এ হাট দুটি সরকারি ভাবে ইজারাদার দ্বারা পরিচালিত। ৩ জুন মঙ্গলবার অরণকোলা হাটে প্রচুর পরিমাণে গরু-উঠলেও হাটে তেমন একটা ক্রেতার দেখা মেলেনি। অনেকেই বলেছেন টাকা ওয়ালা লোকেরা হাটে আসছে না। তারা অনেকেই রয়েছে আত্মগোপনে।
ঈশ্বরদী প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সুত্রে জানা যায, ঈশ্বরদীতে গরু-ছাগলের ছোট-বড় খামারের সংখ্য ৩ হাজার ২৭টি। এসব খামারে কোরবানীর জন্য ৭৩ হাজার ৫০০ পশু প্রস্তুত রয়েছে। অথচ চাহিদা ৪৩ হাজার গরু-ছাগল।
মঙ্গলবার (৩ জুন ) অরণকোলা হাটে দেখা যায়, স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়িরা পার্শ্ববর্তী লালপুর, বনপাড়া, আটঘরিয়া, সাঁথিয়া, ভেড়ামারা উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বিক্রির জন্য হাটে গরু আমদানি হয়েছে। সারিবদ্ধ ভাবে হাজার হাজার গরু বিক্রির জন্য দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতার সংখ্যা কম থাকায় বিক্রিও নেই।
দরগাপাড়া থেকে ৪টি গরু বিক্রি করতে আসা মেহেরাব প্রামানিক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আশাছিল লাভে গরু বিক্রি করে ফিরবো, কিন্তু বিক্রি তো দূরে থাক, দাম পর্যন্ত কেউ জিজ্ঞেস করেনি। এই হাটে এমন অবস্থা আগে কখনো দেখা যায়নি।
হাটে গরু নিয়ে আসা লালপুরের মহড়কয়া গ্রামের রকিবুল ইসলাম বিক্রির জন্য তিনটি গরু এনেছিলেন। আশা ছিল প্রতিটি ৯০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করবেন। ক্রেতা কম থাকায় একটি গরু ৭৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন এবং অন্য দুটি ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'গত বছর একই রকম গরু ৮৩-৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলাম।

গরু ব্যবসায়ি আরমান শেখ হাটে বিক্রি কম জানিয়ে বলেন, হাটে আনা ৯টি গরু কয়েকজন দেখে অনেক কম দাম বলায় বিক্রি করা যায়নি। এবার আমাকে হয়তো লোকসানে গরু বিক্রি করতে হবে।
হাটের ইজারাদার আলহাজ্ব মিজানুর রহমান রুনু মন্ডল বলেন, হাটে গরুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা না থাকায় খামারি ও গরু ব্যবসায়িরা চরম হতাশ। আগের বছরগুলোতে হাটে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেখা যাক আজ পরিস্থিতি কি দাঁড়ায়?
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন জানান, ঈশ্বরদীতে এবার পশুর চাহিদা ৪৩ হাজার। ৩ হাজার ২৭টি খামারে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে ৭৩ হাজার ৫০০টি। বেশি লাভের আশায় এখানকার খামারিরা দেশের বিভিন্ন জায়গার হাটে গরু-ছাগল বিক্রি করছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারী বিভাগের মেডিকেল টিম হাটে ক্যাম্প বসিয়ে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
0 Comments