Header Ads Widget

News Portal Advertisement

Welcome to Our News Portal

Stay updated with the latest news and trending stories from around the globe.

ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডায় আ'লীগ নেতা মাটি খেকো কামালের নেতৃত্বে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধিঃ ঈশ্বরদী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নে শুরু হয়েছে জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন। ফসলী জমি নষ্ট করে ইটভাটা নয়, সরকারের এই নির্দেশনাকে আবারও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নে শত শত একর ফসলি জমি এবং বিঘা বিঘা জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নিচ্ছেন ইটভাটার অসাধু মালিকেরা। নিয়ম-নীতির বালাই না থাকা ও অধিক লাভের কারণে শুধুমাত্র লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অর্ধশত ইটভাটা। বিশাল অংকের এই ইটভাটায় সরবরাহের জন্য শুধু ফসলী জমিই নয়, নদী ও সরকারি খাসজমি থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করছেন আওয়ামী লীগ নেতা কামাল ওরফে মাটি খেকো কামালের নেতৃত্বে প্রভাবশালী একটি চক্র।
ঈশ্বরদীর কতিপয় প্রশাসন এই কাজে মাটি খেকো কামালকে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় নির্বিঘ্নে এসব অপকর্ম মাসের পর মাস চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা কামাল ওরফে মাটি খেকো কামাল। এতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও কৃষকেরা। তারা অবিলম্বে লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের মাটি উত্তোলন ও ইটভাটা বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন। সূত্রটি আরও জানায় এই অবৈধ মাটি উত্তোলন ও টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে এলাকায় অসংখ্যবার হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি আবারো শুরু হয়েছে মাটি উত্তোলন। এতে করে সহিংস ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় কৃষি আবাদের উৎপাদনে বেশ সমৃদ্ধ লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন। সেই কৃষি আবাদের শত শত একর ফসলী জমি নষ্ট করে গড়ে উঠেছে অবৈধ অর্ধশত ইটভাটা। এসব ইটভাটার কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয় মাটি। লক্ষ্মীকুন্ডায় অবৈধ এসব ইট ভাটায় সরবরাহের জন্য শত শত বিঘা জমির ফসলসহ মাটি কেটে সাবাড় করা হচ্ছে মাটি খেকো কামালের নেতৃত্বে। এসব কারণে ফসলী জমি কমে যাওয়া এবং ইটভাটা থেকে পরিবেশ বিনিষ্টকারী কারণে ধোঁয়া নির্গত হওয়ার কারণে লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নে সবজি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে। বিষয়টি চরমভাবে ভাবিয়ে তুলেছে স্থানীয় কৃষকও কৃষি কর্মকর্তাদের। কিন্তু ইটভাটার মালিকেরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় এর কোন কূল কিনারা করতে পারছেন না তারা।
লক্ষিকুন্ডায় অবৈধ ইটভাটার উচ্ছেদ পরিচালনা শুরু হওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন ওই এলাকার কৃষকেরা। কিন্তু অদৃশ্য কারণে ইটভাটায় উচ্ছেদ অভিযান চলমান না থাকায় চরমভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তারা। অবিলম্বে কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে লক্ষ্মীকুন্ডায় অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
সরেজমিন লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের দাদাপুর, কামালপুর, বিলকেদার,বাবুলচাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় একর একর জমি বিনষ্ট করে ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ওই সমস্ত ইটভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে পরিবেশ রক্ষা কারি গাছ। ইটভাটায় জ্বালানি থেকে নির্গত ধোঁয়ায় মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এলাকার পরিবেশ। এতে চরমভাবে ক্ষতি হচ্ছে আশপাশের কৃষি আবাদ। ইটভাটায় ধোঁয়া ও ধুলার কারণে পার্শ্ববর্তী শত শত একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এদিকে মাটি, বালু ও ইট পরিবহনের কারণে রাস্তাঘাট গুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। অসহায় চাষীরা এর প্রতিকার করেও কোন ফল পাচ্ছে না। উল্টো তাদের হুমকি দিচ্ছেন ইটভাটার মালিকেরা। অন্যদিকে লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা নদী। সেই নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার জন্য মাটি খেকো কামালের নেতৃত্বে ভেকু মেশিন লাগিয়ে নদীর পাড় থেকে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে। শুধুমাত্র লক্ষীকুন্ডান্ডা ইউনিয়নেই প্রায় ১৩ টি স্থানে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। যা মারাত্মক ক্ষতিকর বলে জানান স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষক জানান, লক্ষ্মীকুন্ডায় অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য তাদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। সেই সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে প্রতিটি ভাটা থেকে মাসিক ভাবে টাকা তুলে ঈশ্বরদীর কতিপয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করা হয়। আমরা আমাদের ফসলের ক্ষতির জন্য অনেকবার প্রতিবাদ করেছি প্রশাসনের কাছেও গিয়েছি। কোন লাভ হয়নি।
অপর এক কৃষক জানান, ইট ভাটার কারণে এবং কয়েকবার জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিবাদ করে কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ইটভাটার মালিকের কাছে কম দামে সে জমি বিক্রি করে দিয়েছি।
এ বিষয়ে এক কৃষক নেতা জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরাও চিন্তিত। বিষয়টি নিয়ে সর্বস্তরের কৃষকদের সাথে আলাপ-আলোচনা চলছে। ফসলি জমি নষ্ট করে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে খুব শীঘ্রই প্রধান উপদেষ্টাসহ সকল উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। তারা আরও বলেন, কৃষি জমি নষ্ট না করতে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা যেখানে নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে শতশত একর কৃষি জমি নষ্ট করে ইটভাটার কার্যক্রম মেনে নেয়া যায় না। ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাস বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ফসলি জমি নষ্ট করে কোন অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম চলতে দেয়া হবে না। অবৈধ ইটভাটায় আগেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, খুব শীঘ্রই অবৈধ ইটভাটায় মাটি উত্তোলন বন্ধে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Post a Comment

0 Comments