সেলিম আহমেদঃ বিদেশী আমদানি করা ফলের মূল্য জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখতে তাজা ফল আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ও আগাম কর কমিয়েছে সরকার। কিন্তু এ শুল্ক ও কর কমানোর পর ঈশ্বরদীতে আমদানি করা ফলের দাম কমার বদলে আরও বেড়েছে। সব থেকে বেশি বেড়েছে আপেল ও কালো আঙুরের দাম।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ফল ব্যবসায়িদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গালা, সানমুন, গোল্ডেন, নারিকেলি, হানি, অস্ট্রেলিয়ান আপেলের দাম কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে কালো সবুজ ইন্ডিয়ান আপেলের দাম একটু কম। কালো আঙুরের দামও কেজিতে ১০০ টাকার ওপরে বেড়েছে। মালটা ও কমলার দাম কেজিতে বেড়েছে ২০-৩০ টাকার মতো।

দাম বেড়েছে আপেল, আঙুর, কমলা, মালটা, বেদানার দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে তা নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারণ কোনো আমদানি করা ফলের কেজি এখন ৩০০ টাকার নিচে কেনা যাচ্ছে না।
উপজেলার সাহাপুর থেকে সাইফুল ইসলাম নামের এক দিনমজুর মেয়ের জামাই বাড়িতে নেওয়ার জন্য ১ কেজি আপেল কিনতে এসে দাম শুনেই ফিরে যাচ্ছে। বললেন, আমাদের মতো গরিব মানুষের এতো দাম দিয়ে ফল কেনা সম্ভব না হাওয়ায় খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি অন্য কিছু কিনে মেয়ে জামাই বাড়িতে নিয়ে যাব।
অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবসায়িদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ মার্চ তাজা ফল আমদানিতে আরোপিত সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করে । সেই সঙ্গে ৫ শতাংশ আগাম কর সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া ফল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। কিন্তু এর পরও ঈশ্বরদীর বাজারে আমদানি করা ফলের দাম কমেনি।
বাজারভেদে ব্যবসায়ি এখন সবুজ আপেলের কেজি বিক্রি করছেন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। কিছুদিন আগে এ আপেলের ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। গালা আপেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৩০ টাকা। কিছুদিন আগে এ আপেল ৩৫০-৩৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। বড় আকারের আপেল কিছুটা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। এ আপেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা।
আপেলের পাশাপাশি আঙুরের দামও বেশ বেড়েছে। কিছুদিন আগে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া কালো আঙুর এখন ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর সবুজ আঙুরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। কিছুদিন আগে এ আঙুরের দাম ছিল ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা।
ব্যবসায়িরা মালটার কেজি বিক্রি করছেন ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা। কিছুদিন আগে এ ফলের কেজি ছিল ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা। একইভাবে বেড়েছে কমলার দাম। কিছুদিন আগে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া কমলা এখন দাম বেড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বেদানার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। এই ফলটির দাম নতুন করে বাড়েনি।
ঈশ্বরদী শহরের ফল ব্যবসায়ি সুজন আলী বলেন, এখন সব ধরনের ফলের দাম বাড়তি। আজ আড়ত থেকে এক কাটুন আপেল ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়েছে। এক কাটুনে ১৮ কেজির মতো আপেল থাকে। এর মধ্যে কিছু আপেল নষ্ট ও থাকে। গত কয়েকদিন ধরে আপেলের দাম বেড়েই চলেছে। ১০ দিনের ব্যবধানে আপেলের দাম কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে গেছে। সরকার ফল আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে দিলেও কেন ফলের দাম বাড়ছে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে সীমান্তের বন্দরে আমদানি বন্ধ। আমদানি বন্ধ হওয়ার আগেই কিছু বড় বড় ব্যবসায়ি ঢাকা-চট্টগ্রাম নাটোরসহ বিভিন্ন এলাকায় স্টোরে হিমাগারে ফল সংরক্ষণ করে রাখে। এরপর ঈদে আমদানি বন্ধের সুযোগ বুঝে ফল আমদানিকারক ব্যবসায়িরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে চাহিদার চাইতে কম ফল মার্কেটে ছারছে। তাই বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
শহরের আর এক ব্যবসায়ি আলমাস আলী বলেন, রোজার শুরু থেকেই ফলের দাম বাড়তি। দিন যত যাচ্ছে দাম তত বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে সব ধরনের ফলের দাম বেড়েছে। দাম বাড়ার কারণে মানুষ কেনা কমিয়ে দিয়েছে। অল্প অল্প করে ফল আনছি, কিন্তু বিক্রি খুব একটা হচ্ছে না। অনেকেই দাম শুনে চলে যাচ্ছেন।
উপজেলার আওতাপাড়া বাজারের ফল ব্যবসায়ি আবেদ আলী বলেন, কিছুদিন আগেও সবুজ আপেলের কেজি ৩৫০ টাকা বিক্রি করেছি। আড়তে এখন এত দাম বেড়েছে আমাদের পক্ষে ৪২০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যান্য আপেলের দামও বেড়েছে। সেইসঙ্গে কমলা, আঙুর, মালটার দামও বেড়েছে। কিছুদিন আগে যে কমলা ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি, এখন তা সাড়ে ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।
বিক্রি পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ি বলেন, আপেল, আঙুর, মালটা, কমলার বিক্রি এখন অনেক কম। অল্প কিছু ফল আনলে বিক্রি করতে কয়েকদিন লেগে যায়। এসব ফলের বিক্রি কম হওয়ায় এখন দোকানে তরমুজ ও কলাও বিক্রি করছি। আগে আপেল, আঙুর, মালটা, কমলা, বেদানা ছাড়া কিছু বিক্রি করতাম না।
0 Comments