সেলিম আহমেদ, ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ॥ ঈশ্বরদীর পাশ্ববর্তী দুর্গাপুর গ্রামের শিব মন্দিরে দির্ঘ ৭৭ বছর ধরে বর্নাঢ্য আয়োজনে হাজরা উৎসব ও চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। চড়ক পূজা উপলক্ষে এখানে গ্রাম্য মেলায় পরিণত হয়েছে। তন্ত্র মন্ত্রকে সাধন করে সন্যাসী সাগর, সঞ্জিত, পরিতোষ ও সুবোদের জিভ ফুটো করেন। এছাড়া সত্যেন সরকারের পিঠে লোহার তৈরি দুইটি বড়শি জাতিয় হুক লাগিয়ে দেন। এতে কারও কোন বিন্দু পরিমাণ রক্ত বের হয়না। মানবাধিকার কর্মীরা একে অমানবিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে থাকেন। চড়ক উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বিরা ছাড়াও এখানে প্রচুর পরিমাণে মুসলমান ধর্মাবলম্বি ব্যক্তিরা চড়ক দেখার জন্য এখানে ভিড় জমায়।

হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বিরা চৈত্র সংক্রান্তিতে হাজরা উৎসব ও চড়ক পূজা পালন করে থাকেন। চৈত্র মাসের শেষে হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বিরা মূলত এই পূজা করেন। তন্ত্র মন্ত্রকে সাধন করে সন্যাসি মানতকারি ব্যক্তিদের মুখের জিহ্বায় লোহার শিক দিয়ে ফুটো করে দুই পাশে দুটো কাঁচা আম লাগিয়ে দেয়। এছাড়াও বাবলা কাঠের তৈরি চড়কে একজন মানুষের পিঠে লোহার তৈরি বড়শি জাতিয় হুক লাগিয়ে চড়কির মতো তাকে ঘুরাতে থাকেন।
সন্যাসি সাধন চন্দ্র তন্ত্রমন্ত্রকে সাধন করে সত্যেন সরকারের পিঠে বড়শি জাতিয় লোহার রড দিয়ে তৈরি হুক ঢুকিয়ে চড়কে ওঠান। চড়কে চড়া সত্যেন সরকারের কোলে মানতকৃত অনেক শিশুদের চড়িয়ে দেন। এছাড়া তার হাতে মানতের জন্য আনা কবুতর ও বাতসা তুলে দেয়া হয়। চড়কে চড়া ওই ব্যক্তি বাতসা ছিটিয়ে দিলে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তরা তা তুলে খেয়ে থাকেন। চড়কে চড়া ব্যক্তি চড়ক ঘুরানোর সময় ব্যাথা অনুভব না করে আনন্দ ও উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন। এসব নানা ধরনের ঝুঁকিপূর্ন কসরত দেখানোর সময় তাদের শরীরে কিংবা জিহ্বায় ব্যাথা লাগেনা এবং রক্তও ঝড়েনা বলে জানান তারা। এছাড়া বাবলা কাঠের দগদগে লাল আগুনে খালি পায়ে বেশ কয়েকজনকে হেঁটে বেড়াতে দেখা গেছে।

চড়ক দেখতে আসা সাকিবুল হাসান ও সকাল আহমেদ বলেন, আধুনিক সভ্যতার ডিজিটাল যুগে এটা একটা অমানবিক কাজ। একজন তাজা মানুষের জিহ্বায় লোহার শিক ও শরীরে বড়শি জাতিয় লোহার রড দিয়ে তৈরি হুক এভাবে লাগানো ঠিক হয়নি। এতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
দুর্গাপুর শিব মন্দির কমিটির সভাপতি সুনিল চন্দ্র প্রামাণিক এ বিষয়ে বলেন, ভগবানের সন্তুষ্টি লাভের আশায় মূলত এই হাজরা উৎসব বা চড়ক পূজা হয়ে থাকে। এটা মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের একটা ধর্মীয় উৎসব। আমাদের বাপ-দাদারা সেই আমল থেকে চড়ক উৎসব পালন করে আসছেন। তিনি বলেন, দির্ঘ ৭৭ বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে দুর্গাপুরে এই উৎসব পালিত হচ্ছে। এখানে প্রতি বছরই চড়ক দেখতে আসা ভক্তদের সমাগম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে প্রচুর ভক্তবৃন্দের সমাগম ঘটলেও মন্দিরে আসা রাস্তাটির বেহাল দশা। রাস্তাটির তৈয়ারীর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
0 Comments